খেলাধুলা ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 6 বার পঠিত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৯ দিন। এবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সতর্ক অবস্থানে আছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। বিশ্বকাপের আগে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতির সঙ্গে অন্য কোনো অর্জনের তুলনা চলে না। অতীতের সাফল্য ভুলে দেশমের পুরো মনোযোগ এখন সামনের দিকে।
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে পা রাখতে যাচ্ছেন দেশ্যম। সাবেক এই মিডফিল্ডার অতীত সাফল্য নিয়ে মোটেও বসে থাকতে রাজি নন। দেশ্যম বলেন, ‘আমি কেবল আজ এবং আগামীকাল কী হবে, তা নিয়েই ভাবি। আমি এমনই। সত্যি বলতে, অন্য কোনো কিছু আমার কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়। সামনে যা আসছে, আমি শুধু সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি যোগ করেন, ‘৯৮ ও ১৮ সালের স্মৃতি সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে, কিন্তু অতীতকে তো আর বদলানো যাবে না। এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমরা সামনে কী করতে যাচ্ছি। এই দুই জয়ে আমার ভূমিকা ভিন্ন ছিল, কিন্তু দুটি অভিজ্ঞতাই ছিল অবিশ্বাস্য রকমের জাদুকরী।’
ক্লাব ফুটবলে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য ট্রফি জিতলেও দেশ্যমের চোখে বিশ্বকাপের স্বাদই আলাদা, ‘আমি ক্লাবের হয়ে অনেক ট্রফি জিতেছি, কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। এই খেতাব অর্জনের পর আপনার নামের পাশে চিরদিনের জন্য দুটি শব্দ যুক্ত হয়ে যায় ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’’
এটিই হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের ডাগআউটে দেশ্যমের শেষ মিশন। আগামী ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে যদি ফ্রান্স আবারও ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারে, তবে ফুটবল ইতিহাসে সম্পূর্ণ একক এক উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন তিনি। ইতিহাস জানাচ্ছে, কেবল দেশ্যম, প্রয়াত মারিও জাগালো এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছেন। তবে এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার এবং কোচ হিসেবে দুটি ও খেলোয়াড় হিসেবে একটি বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়বেন এই ফরাসি।
এবারও ফ্রান্সকে ফেবারিট ভাবা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দেশ্যম বলেন, ‘আমাদের অতীত ফলাফলের কারণেই ভক্তদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। আমরা ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এবং ২০২২ সালে ফাইনাল খেলেছি, তাই সমর্থকেরা স্বাভাবিকভাবেই জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফ্রান্সকে শিরোপার দৌড়ে দেখতে চায়। বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলে ১০ থেকে ১২টি দেশ রয়েছে যারা বাস্তবিকভাবেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। কিন্তু দিনশেষে ট্রফিটা তো পাবে যেকোনো একটি দেশ! তার মানে বাকি ১১টি দেশকেই হতাশ হতে হবে।’
গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচ সেনেগালের বিপক্ষে। ম্যাচটি ফিরিয়ে আনছে ২০০২ বিশ্বকাপের স্মৃতি, যখন শিরোপাধারী ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল সেনেগাল। তবে দেশ্যম অতীতের সেই হারকে বর্তমানের সঙ্গে মেলাতে নারাজ, ‘তখন আমার বর্তমান খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই জন্মায়নি, কিংবা এত ছোট ছিল যে কিছুই বোঝার মতো বয়স হয়নি। খেলাধুলায় প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। ওটা এখন ইতিহাস। এটি নতুন একটি অধ্যায়। সেনেগাল আফ্রিকার অন্যতম সেরা ফুটবল জাতি।’
আক্রমণভাগে এবার একঝাঁক তারকা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরেছে ফ্রান্স। দলে আছেন পিএসজিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো এবং ২০১৫ সালের ফিফা ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার বিজয়ী উসমানে দেম্বেলে, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মাইকেল অলিসে এবং সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ ছাড়া ফরোয়ার্ড লাইনে জায়গার জন্য লড়াই করছেন দেজিরে দুয়ে, রায়ান চেরকি এবং মার্কাস থুরামের মতো তরুণ তুর্কিরা।
স্কোয়াডের এই মধুর সমস্যা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন কোচ, ‘তারা সবাই একসঙ্গে একাদশে খেলতে পারবে না। দলে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের দলের ভেতর সঠিক রসায়ন তৈরি করতে হবে, যেখানে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত অহংকার যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আমাদের দলে মাঠের বোঝাপড়াটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’
সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ নিয়ে বলেছেন, যখন কেউ ফ্রান্সের এই জার্সিটা গায়ে জড়ায়, তখন তার কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব চলে আসে। আজ থেকে ১৪ বছর আগে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই আমি ছেলেদের বলেছিলাম, ‘যখন তোমরা ফ্রান্স দলে আসবে, তখন এখান থেকে কিছু নিতে আসবে না, বরং দেশকে কিছু দিতে আসবে’।”
Posted ৩:৩৪ এএম | মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।